সর্বশেষ

'গতকাল হবিগঞ্জে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, আহত শতাধিক নেতাকর্মী'

প্রকাশ :


২৪খবরবিডি: 'হবিগঞ্জে রবিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে উভয় দলের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির শায়েস্তানগরের অফিসে হামলা চালান এবং সেখানে থাকা বিএনপির তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়ে। হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।'
 

'স্থানীয় ব্যক্তিরা জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে শনিবার বিকেলে দলটির পদযাত্রা কর্মসূচি পুলিশের বাধার মুখে ভণ্ডুল হয়। হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর চিড়াখানা সড়ক এলাকায় বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান, হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি অজয় চন্দ্র দেবসহ ৩৫ থেকে ৪০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ দুই শতাধিক বিএনপির নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার শহরে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে জেলা আওয়ামী লীগ। বিকেল সাড়ে ৫টায় শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকা থেকে মিছিল বের হয়। মিছিলটি শায়েস্তানগর চিড়াখানা এলাকায় পৌঁছলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিএনপির অফিসে হামলা চালিয়ে চেয়ার ভাঙচুর করেন। সেখানে থাকা একটি তোরণ ও ব্যানার-ফেস্টুনও ভেঙে ফেলেন তাঁরা। এ সময় নেতাকর্মীরা অফিসের পাশেই থাকা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জি কে গ উছের বাসায় হামলা চালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা পাল্টা হামলা চালালে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা দেশি অস্ত্র রামদা, হকিস্টিক, লাঠি, লোহার রড ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের শেখ শেবুল মিয়া, মহিবুর রহমান মাহি, আবুল কাশেম, মাসুম বিল্লাহ, রাজুসহ ৭০ জন আহত হন। বিএনপির জি কে গাফফার, জি কে মওলা, সেতু, চন্দন, ইমন, গুলজার, মাহবুবসহ আহত হন ৩০ জন।'


'খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড টিয়ার গ্যাসের শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী বলেন, বিএনপির নৈরাজ্যের প্রতিবাদে জেলা আওয়ামী লীগ বিক্ষোভ মিছিল করে।' মিছিলে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা করলে সেখানে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এর আগে তারা পুলিশের ওপর হামলা

'গতকাল হবিগঞ্জে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, আহত শতাধিক নেতাকর্মী'

করে। এতেই প্রমাণিত হয়েছে বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল। হবিগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আফজাল আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে বিএনপির অফিসে ভাঙচুর ও হামলা করেছে। হামলায় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।'

'আহত ওসিকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে'-
'শনিবারের সংঘর্ষকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান, হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি অজয় চন্দ্র দেবসহ ৪০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। এর মধ্যে ওসি অজয় চন্দ্র দেবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল রবিবার দুপুরে ঢাকা চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।'

'পুলিশের মামলা করার প্রস্তুতি'-
'হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) বদিউজ্জামান জানিয়েছেন, শনিবারের ঘটনায় পুলিশ অ্যাসল্টসহ একাধিক মামলা করা হবে। আসামির সংখ্যা কত হবে এখনো বলা যাচ্ছে না। শনিবার পুলিশ কত রাউন্ড টিয়ার গ্যাসের শেল ও বুলেট নিক্ষেপ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো হিসাব চূড়ান্ত হয়নি। তবে এখন পর্যন্ত সাড়ে নয় শ রাউন্ডের হিসাব পাওয়া গেছে।'

Share

আরো খবর


সর্বাধিক পঠিত