সর্বশেষ

'দেশের ৮০ শতাংশ খুচরা চামড়া ব্যবসায়ী লোকসানে পেশা ছেড়েছেন'

* সরকার চামড়ার যে দাম নির্ধারণ করে তার ধারেকাছে থাকেন না ট্যানারি মালিকরা * আবার অনেকে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে চামড়া ট্যানারিতে নিয়ে টাকা পরিশোধ করেন না

প্রকাশ :


/ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় চামড়ার হাট যশোরের রাজারহাটে চামড়া নিয়ে বসে আছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা /

২৪খবরবিডি: 'চামড়াশিল্প দেশের প্রধান রপ্তানি খাতগুলোর একটি। কিন্তু ট্যানারি মালিকদের কারসাজিতে এবারও কুমিল্লায় চামড়া ব্যবসায় রীতিমতো ধস নেমেছে। বঞ্চিত হয়েছে চামড়ার টাকার প্রকৃত হকদার দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী। লোকসানে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও। বছরের পর বছর লোকসান গুনে এবং ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে পাওনা টাকা উদ্ধার করতে না পেরে পেশাই ছেড়ে দিয়েছেন কুমিল্লার বেশির ভাগ চামড়া ব্যবসায়ী। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের চামড়া চাহিদার প্রায় অর্ধেক পূরণ হয় কোরবানির ঈদে।'
 

'আর এই মৌসুমে চামড়া সংরক্ষণ করতেন কুমিল্লার শতাধিক চামড়া ব্যবসায়ী। কিন্তু বছরের পর বছর লোকসান দিয়ে পেশা ছেড়েছেন প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবসায়ী। এদিকে পেশাদার চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া না কেনায় বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী বা ফড়িয়ারা। পেশাদার ব্যবসায়ীদের কাছে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে তাঁরা অনেকেই লবণ মেখে স্তূপ করছেন। জেলার চামড়ার সবচেয়ে বড় আড়ত চান্দিনা ও দাউদকান্দি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার ইলিয়টগঞ্জ বাজার। ওই বাজারে প্রতি কোরবানির ঈদে দেড় থেকে দুই লাখ চামড়া সংগ্রহ করে লবণজাত করতেন প্রায় ১৫ জন ব্যবসায়ী। ঈদের দিন বিকেল থেকে ঈদের পরদিন পর্যন্ত মহাসড়কের ইলিয়টগঞ্জ বাজারের সব্দলপুর সংযোগ সড়কে প্রবেশ করা ছিল অসম্ভব। প্রতিটি আড়তে ৮-১০ জন শ্রমিক কাজ করতেন দুই-তিন দিন ধরে। কিন্তু এবারের ঈদে সেই চিরচেনা রূপ নেই ইলিয়টগঞ্জের চামড়ার আড়তে। নেই শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা। ঈদের পরদিন শুক্রবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায় সেখানে মানুষের আনাগোনা নেই। পাঁচ-সাতটি চামড়া র স্তূপ আছে তা-ও ঘরের মধ্যে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যে আড়তে ১৪-১৫ জন আড়তদার ছিল এবার সেই আড়তে চামড়া কিনেছে মাত্র তিনজন। তা-ও মাত্র আড়াই হাজার চামড়া। চামড়া ব্যবসায়ী জুলহাস বলেন, 'এই আড়তে কেউ ১০ হাজার পিসের নিচে চামড়া কিনত না। কিন্তু এবার চামড়া তিনজনে মিলে কিনেছে মাত্র দুই হাজার ৬০০। চামড়ার ব্যবসা ছেড়েছেন ১২ জন আড়তদার। ট্যানারি মালিকদের কারসাজিতে পথে বসে গেছেন ব্যবসায়ীরা।'


'পেশা ছাড়া চামড়া ব্যবসায়ী দেলোয়ার মুন্সি বলেন, 'সরকার চামড়ার যে দাম নির্ধারণ করে তার ধারেকাছেই থাকেন না ট্যানারি মালিকরা। আবার অনেক ট্যানারি মালিক নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নির্ধারণ করে আমাদের চামড়াগুলো ট্যানারিতে নিয়ে চামড়া রাখেন ঠিকই, কিন্তু টাকা পরিশোধ করেন না। বছরের পর বছর টাকা বাকি রাখেন। পরের বছর বলেন, এ বছর চামড়া দিলে সব টাকা পরিশোধ করে দেবেন।

'দেশের ৮০ শতাংশ খুচরা চামড়া ব্যবসায়ী লোকসানে পেশা ছেড়েছেন'

আমরাও সেই আশায় চামড়া নিয়ে ট্যানারিতে দিতাম। কিন্তু আবারও একই অবস্থা। যে কারণে এ পেশা ছেড়ে দিয়েছি।' চান্দিনার লতিফপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. মিলন বলেন, 'এ এলাকায় সাতজন এই ব্যবসা করত। এখন আমি ছাড়া আর কেউ করে না। আমি গত বছরও ২৫ হাজার পিস চামড়া কিনেছি। কিন্তু এ বছর ১০ হাজারের বেশি কিনতে পারি নাই।' কারণ হিসেবে তিনি বলেন, 'প্রায় অর্ধকোটি টাকা বকেয়া আছে ট্যানারিতে। টাকা না থাকলে চামড়া কিনব কিভাবে?'
 

'এদিকে বেশির ভাগ চামড়া ব্যবসায়ী চামড়া না কেনায় কোরবানির পর চামড়া বিক্রি নিয়েও বিপাকে পড়েছেন অনেকে। জলের দরে চামড়া বিক্রি করেছে সাধারণ মানুষ। আবার কেউ বা চামড়া বিক্রি করতে না পেরে স্থানীয় মাদরাসাগুলোতে দান করে দিয়েছেন। চান্দিনার তুলাতলী গ্রামের কবির হোসেন বলেন, 'আমরা দেড় লাখ টাকা দিয়ে যে গরু কোরবানি দিয়েছি সেই গরুর চামড়া মাত্র তিন শ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি।' বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, 'ট্যানারিগুলোতে টাকা পাওনা থাকার বিষয় থাকে। তবে কেউ যদি দীর্ঘদিন টাকা না পায় সে ক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরাও সহযোগিতা করতে পারি।' সরকারের নির্ধারিত মূল্যে চামড়া সংগ্রহ না করা সম্পর্কে তিনি বলেন, 'বিষয়টি সত্য নয়, এ বছর তো চামড়াই কেনা শুরু হয়নি। ঢাকার বাইরের চামড়াগুলো লবণযুক্ত, চামড়া আরো এক সপ্তাহ পর কেনা শুরু করবে ট্যানারি মালিকরা।''

Share

আরো খবর


সর্বাধিক পঠিত